‘শারি’ মানবাধিকার সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ ও সংখ্যালঘু শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক” (নিজেস্ব প্রতিবেদক)

‘শারি’ মানবাধিকার সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ ও সংখ্যালঘু শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক” (নিজেস্ব প্রতিবেদক)
প্রকাশিত: 08. নভেম্বর. 2018 | বৃহস্পতিবার

Spread the love
৮ই নভেম্বর বৃহস্পতিবার আসন্ন জাতীয় একদশ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শারি মানবাধিকার সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ ও সংখ্যালঘু শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক।

‘শারি” মানাবাধিকার সংস্থার নির্বাহী পরিচালক প্রিয়া বালা বিশ্বাসের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সামজকল্যান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন,এম.পি, বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন জাতীয় মানিবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, মানবাধিকার কর্মী এ্যাভ.সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক এ্যড. রানা দাশ গুপ্ত, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পদক ফরিদা ইয়াসমীন, মানবাধিকার কর্মী ড. মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, দৈনিক সংবাদ এর ভারপ্রপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, দৈনিক আমাদের নতুন সময় এর যুগ্ম সম্পাদক বিভুরঞ্জন সরকার, বাংলাদেশ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও। গোলটেবিল বৈঠক সঞ্ছালনের ভুমিকায় ছিলেন দৈনিক ভোরের কাগজ এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

গোলটেবিল বৈঠকে সকলের আলোচনায় প্রায় একই প্রসঙ্গ উঠে আসে। একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সকলের ভাবনা কেন্দ্রবিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর নির্বাচন পূর্ব ও নির্বাচনত্তোর সহিংসতা।সকলে এই সহিংসাতা মুক্ত নির্বাচন চায়। তারা প্রকাশ করেন প্রতিটি নির্বাচন পূর্ব ও নির্বাচনত্তোর সহিংসাতায় একমাত্র কারণ রাষ্ট্রের নিস্ক্রিয়তা। এবারের একাদশ জাতিয় নির্বাচনেও সেই আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই সহিংসতা বন্ধে নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক ডামাডোলে সংখ্যালঘুদের বিষয়টি যাতে না হারিয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহব্বান জানান সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতি। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও সচেতনতা না বাড়ানো হলে এইসব নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তারা।

প্রধান অতিথি সমাজ কল্যানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, এমপি বলেন রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বিষয়ে উল্লেখ থাকতে হবে।নির্বাচনকালীন সময়ে এবং নির্বাচনের পরে স্ংখ্যালঘুদের উপর যাতে কোন হয়রানী না হয় সে বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে খেয়াল রাখতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন রোধে রাষ্ট্র নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সচেতন হতে হবে।এই প্রতিস্ঠানগুলো প্রত্যেকে প্রতিটি এলাকায় সভা করে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন সংবিধানের ২৮ এর ৪ ধারা অনুযায়ী নারী-শিশু ও পিছিয়ে পড়া জনগোস্ঠীর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আইন হতে পারে। বাংলাদেশে নারী-শিশুদের নির্যাতন রোধে আইন রয়েছে তাই সংখ্যালঘুদের নির্যাতন রোধেও আইন হতে পারে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা দুর্ভগ্যজনক। এই দেশ স্বাধীন হয়েছে সবার জন্য কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ কেন আজও অস্তিত্বের জন্য লড়াই করবে?

নির্বাচন কমিশন কে উদ্দেশ্য করে বলেন- জাতীয় নির্বাচনে যেন কোন দল ধর্মকে ব্যাবহার করে ফায়দা লুটতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা জন্য সকলকে নিজ নিজ ভুমিকা পালন করতে হবে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে যে, সকল জনপ্রতিনিধিরা কোন ভুমিকা পালন করেনি তাদের মনোনয়ন না দেওয়া ও তাদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিষয়টিও উঠে আসে গোলটেবিল বৈঠকে।